হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রুয়েটে ছাত্রদলের নামে দেয়াল লিখন, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রোববার দিবাগত মধ্যরাতে ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। তবে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি শুরু হচ্ছে অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার রাতে বিক্ষোভের পর আজ সোমবার ক্লাস বর্জন করেছেন ২০ সিরিজের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ২০ সিরিজ সাধারণত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করে। যদিও একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তাঁদের বর্ষ পরিবর্তন হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট রুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গোপন ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় অসন্তোষ জমতে থাকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন দেখা যায়। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। রোববার বিকেলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়, যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গুপ্ত রাজনীতির পাশাপাশি প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে দেয়াল লিখন করেন এবং একটি ব্যানার টাঙান। কিন্তু ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যানার খুলে পুড়িয়ে দেন।

পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ফেসবুক পেজে প্রচার করলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক তৎপরতা চলছে, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিবাদ হিসেবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।

গভীর রাতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা এই রুয়েটে হবে না’সহ নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা।

অন্যদিকে জিয়া হলের সামনে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রদলকর্মী সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কিছু সময়ের জন্য টান টান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তবে আজ সোমবার ২০ সিরিজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও ল্যাব বর্জন করেন। ক্যাম্পাসে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রুয়েটে ছাত্রদলের নামে দেয়াল লিখন হলেও খোঁজ নিয়ে কোনো কমিটি থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি। যদিও রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও দু-একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন।

উপাচার্য বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারণ, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে আইন অনুযায়ী কেউ এটা করতে পারে না। এরপরও এটা হচ্ছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। কী করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। আমি সচিবালয়ে কাজে এসেছি। রাতে ছাত্র উপদেষ্টাকে পাঠিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়েছে। আজ তারা ক্লাস বর্জন করেছে। ছাত্র উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনার কথা আছে।’

দুর্গাপুরে কলেজশিক্ষককে হেনস্তা: ভুক্তভোগী প্রদর্শক বরখাস্ত

দেশের ৬১ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে হাম

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই কলেজে গিয়ে প্রদর্শককে পেটান বিএনপির কর্মী

‘শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে’ রাবি শিক্ষককে ছাত্রদল নেতার হুমকি

পেটানোর পর অধ্যক্ষ-প্রদর্শককে অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আজকের পত্রিকার সম্পাদকের শাশুড়ির মৃত্যু

অধ্যক্ষকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথা বলায় প্রথমে থাপ্পড় দেন প্রদর্শক

ভূমিমন্ত্রীর বাসার সামনে ভূমিহীনদের অনশন

সরকারি কলেজের নারী ডেমোনেস্ট্রেটরকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা, অধ্যক্ষসহ আহত ৫

রাজশাহী-ঢাকা রুটে এসি বাসের ভাড়া বাড়ল ২০০ টাকা