বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় নেতা-কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান তৌহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আল ইমরান হোসেন, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের কর্মী মোহন ইসলাম, আজিজুল হক কলেজ শাখার কর্মী সাদেকুল ইসলাম ও জোবায়ের সরদার সিহাব।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ওই ছয়জনকে বহিষ্কার করা হলো। সেই সঙ্গে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার উপযুক্ত কারণ আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বিজ্ঞপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমার ওপরে হামলার বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নজরে আসায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওই ছয়জনকে বহিষ্কার করেছেন।’ তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষে তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলেও জানান।
যোগাযোগ করা হলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এমন একটি বিজ্ঞপ্তির বিষয় শুনেছি।’
চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি সেটি দেখতে পাননি উল্লেখ করে বলেন. ‘যেহেতু কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেটাতে স্বাক্ষর করেছেন, এ কারণে অবশ্যই ঘটনার পূর্ণবিবরণ লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, কেন্দ্রীয় কমিটি একটি প্রতিনিধিদলকে তদন্তের জন্য বগুড়ায় পাঠিয়ে ঘটনার বাস্তবতা ও সত্যতা নিশ্চিত করবেন।’
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধবিরোধী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ চত্বরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মী। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা ও যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ ১৩ নেতা-কর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে সজীব সাহা ও মাহফুজারকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।