সীমান্তঘেঁষা গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন রাজশাহী-১। কৃষিকাজে সেচের সমস্যা দুই উপজেলাতেই প্রকট। প্রতিবছরই পানির অভাবে বাধাগ্রস্ত হয় চাষাবাদ। আরেক সমস্যা মাদক; এর প্রভাব গোদাগাড়ীতে বেশি। প্রতিবার ভোটের আগে প্রার্থীরা এ দুটি সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয় না। এবারও প্রার্থীরা মাদক নির্মূল ও কৃষকের সেচসংকটের সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহের কথা বলছেন। তবে ভোটাররা আর আশ্বাস নয়, চান দুই সমস্যারই স্থায়ী সমাধান।
এই আসনটিতে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন চারজন। তবে ভোটের মাঠে আলোচনা বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ঘিরে।
গোদাগাড়ী পৌরসভার বারুইপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আসগার আলী বলেন, ‘এই এলাকা দিয়ে যে পরিমাণ হেরোইন ভারত থেকে আনা হয়, তা আর দেশের অন্য কোনো সীমান্ত দিয়ে আসে না। যা আসে, ধরা পড়ে তার চেয়ে খুবই সামান্য। ধরা পড়ে শুধু গরিব বহনকারীরা। গডফাদাররা এসব ছুঁয়েও দেখে না।’
গোদাগাড়ী স্বার্থসংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আইনজীবী সালাহউদ্দীন বিশ্বাস বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা মাদক কারবারিদের টাকা নিয়ে নির্বাচন করেন। এ কারণে মুখে তাদের এক কথা, বাস্তবতা আলাদা।’
জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী শরীফ উদ্দীন বলেন, ‘মাদকের গডফাদারদের ধরতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে সে ব্যবস্থাই করব।’ আর জামায়াতের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে দিতে হবে।
এদিকে গোদাগাড়ী-তানোরের সাধারণ কৃষকের চিন্তা শুধু সেচের পানি। গোদাগাড়ীর নিমঘটুতে বছরের পর বছর ভূগর্ভস্থ পানি তুলে চাষাবাদের ফলে সেখানকার পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। তানোরের পাঁচন্দরের কৃষক মইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পানি। মাটির নিচে পানি নেই। কৃষিকাজের জন্য আমরা এখন পানি পাচ্ছি না। খাওয়ার পানি পেতেই সাবমার্সিবল পাম্প বসাতে হয়। হাতে চাপা কলে কোনো পানি ওঠে না। সব কল বন্ধ। ভোটের আগে সবাই সমস্যার সমাধান করে দেবে বলে; কিন্তু পরে কিছুই হয় না।’