পাবনায় বিয়ের এক মাস পর বর্ষা খাতুন (১৮) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নববধূর পরিবারের দাবি স্বামী শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে পাবনা সদর উপজেলার মজিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্ষা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের বিষু প্রামাণিকের মেয়ে।
এ ঘটনায় নববধূর স্বামী মীর্জা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর বাবা শাহেদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এক মাস সাত দিন আগে পাবনার আতাইকুলা থানার মৌপাড়া গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে মীর্জা মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় বর্ষার। গত এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্ষা টেবুনিয়া শামছুল হুদা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কলেজে ভর্তির কাজের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
তাঁরা আরও জানান, বর্ষার স্বামী মাহফুজুর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাঁরা রাতের খাওয়া শেষে এক ঘরে ঘুমাতে যান। রাত ৪টার দিকে বর্ষা ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তাঁর স্বামী বাড়ির সদস্যদের জানান। পরে বাড়ির লোকজন এসে দেখেন বর্ষার মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে আছে।
বর্ষার চাচাতো ভাই মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বর্ষাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তার ঘাড়, গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পাবনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নববধূর স্বামী ও শ্বশুরকে থানায় নেওয়া হয়েছে।