হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

কমিউনিটি ক্লিনিক তালাবদ্ধ রেখে পান নিয়ে হাটে গেছেন সিএইচসিপি, সেবা নেই

মিজান মাহী, দুর্গাপুর (রাজশাহী)  

সকাল সাড়ে ১০টায় সিএইচসিপি গেছেন পান বিক্রি করতে। তালাবদ্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ডাঙ্গাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রতন আলীর বিরুদ্ধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লিনিক বন্ধ রেখে আড়তে গিয়ে পান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, ডাঙাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ। রোগীরা এসে ওষুধ না পেয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন। শুধু এক দিনই নয়, প্রতিদিন সকালে ক্লিনিকে হাজিরা দিয়েই পান বিক্রির উদ্দেশ্যে আড়তে যান রতন। আসেন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা আছের আলী বলেন, ‘ক্লিনিক বন্ধ রাখার স্বভাব এই লোকের এক দিনের নয়, প্রতিদিন একই কাজ করেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি তাঁর একাধিক পানের বরজ রয়েছে। ক্লিনিকের সঙ্গে বাড়ি হওয়ায় তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। আর উপজেলার শেষ সীমানা ও প্রত্যন্ত গ্রাম হওয়ায় এখানে নজরদারি নেই। ফলে রতন নিজের খেয়ালখুশিমতো ক্লিনিকে আসেন এবং যান।’

ক্লিনিকের পাশেই পানের বরজে কাজ করছিলেন জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, এই ক্লিনিকের সিএইচসিপি রতন আলীর কাছে জিম্মি এখানকার রোগীরা। নিজের খেয়ালখুশিমতো ক্লিনিকে আসেন তিনি। দুপুর ১২টা বাজলেই আর থাকেন না। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে চাঁদা তুলে এ ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়। উপজেলার শেষ সীমানায় হওয়ায় নজরদারি নেই প্রশাসনের।

জানতে চাইলে সিএইচসিপি রতন আলী বলেন, ‘এখন ঈদের মৌসুম। আমি ব্যাংকে টাকা তুলতে যাচ্ছিলাম। সঙ্গে কিছু পানও নিয়ে যাচ্ছিলাম বিক্রির উদ্দেশ্যে। সে জন্য ওপরের অনুমতি নিয়েছিলাম।’

প্রতিদিন ক্লিনিক বন্ধ রেখে পান বিক্রি করতে যান—এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে রতন বলেন, ‘আমার ১৫ পোন লগড়ের পানের বরজ রয়েছে। চাকরির বাইরেও তো আমি এসব দেখাশোনা করতে পারি।’ এ বলে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সাত ইউনিয়নে রয়েছে ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে নজরদারি না থাকায় অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকই চলে সিএইচসিপিদের খেয়ালখুশিমতো। ক্লিনিকে ২৬ ধরনের ওষুধ সরবরাহ হলেও জ্বর-সর্দির ওষুধ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রোগীদের। সরকারি ছুটি ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন নির্দিষ্ট সময়ে খোলার কথা থাকলেও মানেন না কেউ। ফলে গ্রামীণ এ স্বাস্থ্যসেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে দরিদ্র মানুষকে। এতে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেওয়ার আগ্রহও হারাচ্ছেন এলাকাবাসী।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘রতনের বিরুদ্ধে সময়মতো ক্লিনিকে না আসার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে আমি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

পদ্মা থেকে উদ্ধার হাত বাঁধা লাশটির পরিচয় মেলেনি

সেদ্ধ হচ্ছে না টিসিবির ডাল

এবার চলবে না ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

শিক্ষিকার মৃত্যুর খবরে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: শোকাহত দুই পরিবারের পাশে এমপি ফজলে হুদা

‘আপনি রুম খুলে দেবেন কি না, না হলে নিজে গিয়ে তালা ভেঙে ফেলব’—প্রাধ্যক্ষকে হলের ছাত্রদল সভাপতি

বনপাড়া পৌরসভায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

রাজশাহীর বিল নেপালপাড়া গ্রামকে মৌপতঙ্গের জন্য ‘পরাগবান্ধব এলাকা’ ঘোষণা

রাজশাহীতে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় ৮ জন গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

বাঘায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ স্বপন ব্যাপারীর ৩৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি, মামলা