পিরোজপুর-১ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী এ কে এম এ আউয়ালের কর্মী লালন ফকিরকে (২৮) হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে নিহতের বাবা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের রক্ষা করতেই তাঁকে সুযোগ না দিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় বাবুসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে সদর উপজেলার শারিকতলা ইউনিয়নের বাবু শেখের নেতৃত্বে লালন ফকিরের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সমর্থক।
এদিকে লালন ফকিরকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন। শহরের টাউনক্লাব রোড থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিও অফিস মোড়ে বঙ্গবন্ধু চত্বরে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।
এ সময় লালন হত্যায় জড়িতদের আনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায় বক্তারা।
নিহত লালনের বাবা হান্নান ফকিরের অভিযোগ, তিনি থানায় মামলা দিতে গেলেও, পুলিশ তাঁদের মামলাটি গ্রহণ করেননি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককেই রক্ষা করতে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে নিজেরা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। লালনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পরে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে ঢাকা থেকে ফিরে থানায় মামলা দায়ের করবেন। পরবর্তীতে থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাঁর মামলা আর গ্রহণ করেনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লালনের পরিবার সময়মতো মামলা করতে না আসায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। তবে লালনের স্বজনেরা চাইলে আদালতের মাধ্যমে আরও অভিযুক্ত সংযুক্ত করতে পারবে।
পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানি) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।