স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন পটুয়াখালীর চার আসনের মধ্যে তিনটিতে একক আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের। তবে এবার সে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। পটুয়াখালী-১ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। বাকি তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান অপেক্ষাকৃত সংহত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
পটুয়াখালী-১
সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ পাঁচবার, বিএনপি দুবার এবং জাতীয় পার্টি তিনবার জয় পেয়েছে। এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন তিনি। সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি, জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ তাদের প্রতিনিধি বেছে নেবে।’ জামায়াত-সমর্থিত ১১ দলের প্রার্থী এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. আব্দুল ওহাব মিনার। তবে এবি পার্টির সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিএনপির প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, ‘এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। আমি হাসপাতাল, কলেজ নির্মাণ করেছি। এ ছাড়া আমাদের ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জোট হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের ভোটব্যাংক রয়েছে।’ অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের ফিরোজ আলম, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের গৌতম চন্দ্র শীল, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ সাইয়েদুর রহমান, জাতীয় পার্টির আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও স্বতন্ত্র জাকির হোসেন মঞ্জু।
পটুয়াখালী-২
বাউফল উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের আধিপত্য ছিল। এবার এখানে বিএনপির শহীদুল আলম তালুকদারের বিপরীতে শক্তিশালী প্রার্থী জামায়াতের শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বেকারদের চাকরি, চিকিৎসাসেবা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণ ও সাধারণ মানুষের কাছে মাসুদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির অন্তর্কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় জামায়াত।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আলোকিত বাউফল গড়ার লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার জনগণ চায় অবহেলিত বাউফলের প্রতিনিধি হিসেবে এবার সংসদে গিয়ে তাদের কথা বলি।’ বিএনপির প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদার বলেন, ‘বাউফলের জনগণ আমাকে চায়, জনগণ আমার সঙ্গে আছে। আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানকে পটুয়াখালী-২ উপহার দেব।’
অন্য প্রার্থীরা হলেন গণঅধিকার পরিষদের হাবিবুর রহমান, এবি পার্টির মো. রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল মালেক হোসেন ও খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ আইউব।
পটুয়াখালী-৩
গলাচিপা-দশমিনা নিয়ে গঠিত আসনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হাসান মামুনের এলাকায় শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মীও তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। এ ব্যাপারে নুর বলেন, ‘মামুন ভাই দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়ে তিনি কার্যত দলকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আশা করব মামুন ভাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আমার সঙ্গে কাজ করবেন। এলাকায় উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ‘গলাচিপা-দশমিনার প্রতিটি মানুষ চায় আমি নির্বাচন করি। বিএনপির সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত, আমি আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। বিএনপির সব সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক নেতা-কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের শাহ আলম, ইসলামী আন্দোলনের আবু বকর সিদ্দিক।
পটুয়াখালী-৪
কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। তবে তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদিকে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের পর হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে সামনে রেখে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীরা। জামায়াতসমর্থিত ১১ দলের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।