ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আমাদের এজেন্ট ও ভোটাররা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। আমি একটি দলের প্রধান ও ডাকসুর সাবেক ভিপি। আমার মতো একজন প্রার্থী যদি নিরাপত্তাহীনতায় থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি।’
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘গত দুই দিনে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার না করায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’
নুর জানান, এলাকায় পরপর অন্তত পাঁচটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, একটি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া, এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চরবোরহানী এলাকায় অফিস ভাঙচুর এবং কুপিয়ে মানুষকে আহত করার ঘটনা। এসব গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসনের নেওয়া ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়।
সংবাদ সম্মেলনে নুর আরও জানান, এসব বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককেও (আইজিপি) অবহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকার চিহ্নিত চর দখলকারী, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করছেন এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নুর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে তাঁর পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আজও তাঁদের দুই কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, অনেক সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।