পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের তিল্লা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পারিবারিক কবরস্থানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে কবরস্থানের সীমানাঘেরা জালের বেড়া, সাইনবোর্ড ও গাছপালা নষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন শাকিল মৃধা। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন রাতের আঁধারে কবরস্থানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। শাকিল মৃধার দাবি, প্রায় ৫০ বছর ধরে তাঁদের পরিবার ১১ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছে। ওই জমির একটি অংশে পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। সেখানে তাঁর বাবা আবু আল কাশেম মৃধা, চাচা ইসহাক মৃধা, ইদ্রিস মৃধাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের কবর রয়েছে।
শাকিল মৃধা বলেন, এই জমি তাঁর বাবা ও চাচাদের নামে রেকর্ডভুক্ত। জমিটি নিয়ে স্থানীয় ছত্তার খলিফা, সাইদুল খলিফা ও মিজানুর খলিফার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। কবরস্থানের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগেও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
সংবাদ সম্মেলনে শাকিল মৃধার চাচাতো ভাই শহিদুল ইসলাম, মিজানুর মৃধা, মোহাম্মদ মৃধাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছত্তার খলিফা। তিনি বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সালিস হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দিন আগে অভিযোগকারী পক্ষ কবরস্থানের জমিতে জালের বেড়া দেয়। ঘটনার দিন সাইদুল খলিফা গলাচিপায় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগকারীরা ভাঙচুর করে তাঁদের হয়রানির চেষ্টা করছেন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।