পঞ্চগড় জেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে গভীর নলকূপ এবং সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় ৫১ লাখ টাকার এই প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি। শুরু থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, গোপনীয়তা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। কোথায় কত ফুট গভীরতায় বোরিং করা হচ্ছে, কী মানের পাইপ ও ফিল্টার ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা প্রতিটি স্থাপনায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে—এসব বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি যেখানে ১০০ ফুট বা তার বেশি গভীরতায় বোরিং করার কথা, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ৫০ থেকে ৭০ ফুট গভীরতায় কাজ শেষ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের পাইপ ও ফিল্টার ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষকদের আশঙ্কা, এভাবে স্থাপিত নলকূপের পানি নিরাপদ না হলে শিক্ষার্থীরা পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রকল্পটি ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমা অতিক্রম করেছে। অনেক বিদ্যালয়ে এখনো পাম্প স্থাপন করা হয়নি, কোথাও বা কাজ মাঝপথে থেমে আছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে কার্যাদেশ নিয়ে। বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাজ শুরুর অনেক পরে তাঁদের হাতে কার্যাদেশ পৌঁছেছে। ফলে প্রকল্পের শর্ত, ব্যয় এবং ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতে পারেননি।
ছেতনাই টেংগনমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম বলেন, ‘বোরিং কত ফুট করা হচ্ছে বা কী ধরনের মালপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, আমরা কিছুই জানি না। বলেছিলাম স্কুল চলাকালে আমার উপস্থিতিতে কাজ করতে। কিন্তু তারা স্কুল ছুটির পর বিকেল ৫টার দিকে এসে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করে চলে যায়। পুরো বিষয়টিতে লুকোচুরির বিষয় রয়েছে মনে হচ্ছে।’
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘লোকমুখে জানতে পারি, সদর উপজেলার ২২টি বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। অথচ শিক্ষা অফিসে এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যাদেশ বা চিঠি পাঠানো হয়নি। একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, বাজার থেকে সিলবিহীন নিম্নমানের ফিল্টার এনে বসানো হচ্ছে। শিক্ষা অফিসকে না জানানোর কারণে আমাদের পক্ষে কাজের মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।’
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সাবমার্সিবল পাম্পের বোরিং করতে ৩-৪ দিন সময় লাগে। এ কারণে ঠিকাদার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। আশা করছি, জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় পাথরের স্তর থাকায় ৭০ ফুটের বেশি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্যান্য এলাকায় ভালো পানির স্তর পেতে ৯০ থেকে ১০০ ফুট গভীরতায় বোরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’