পতাকা বৈঠকে আসেনি সমাধান
পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে ভারত সীমান্ত অতিক্রমের আগেই তাদের আটকে দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন অবস্থায় মানুষগুলো আটকে পড়ে দুই দেশের শূন্যরেখায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তারা সেখানেই অবস্থান করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, ওই ১০ জন শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশ থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবস্থান করছে।
আজ শুক্রবার ভোরের দিকে সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এলাকাটি নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ী বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫ এবং এর বিপরীত দিক ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন।
বিজিবি জানায়, ভোরে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে তাদের বাংলাদেশের উদ্দেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এ সময় বিজিবির একটি টহল দল তাদের বাধা দিলে বিএসএফের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের ভেতরে সরে যান। বর্তমানে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে ৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বড়বাড়ী ক্যাম্পের বিপরীতে ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।’
বিজিবির এই অধিনায়ক আরও বলেন, বৈঠকে বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছে। তবে তারা বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য তাদের নেওয়া হয়নি। তা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে এভাবে ঠেলে পাঠানো নিয়মবহির্ভূত পদক্ষেপ।
সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজিবির এ কর্মকর্তা।