পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়কের পাশে অটো রাইস মিলের ছাইযুক্ত কালো ধোঁয়া ও স্তূপ করা ছাইয়ে অতিষ্ঠ হয়ে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। আজ রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভেলুপাড়ায় ‘মেসার্স বিশ্বাস অটো রাইস মিল’-সংলগ্ন এলাকায় মিলটির বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মিল থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে পরিবেশদূষণের প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া (আইকে রোড) সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহন, পথচারী, মোটরসাইকেলচালকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী জিল্লু বিশ্বাস ও তাঁর ভাই শামসুল বিশ্বাস তাঁদের ধানের চাতাল মিলে ধান সিদ্ধ এবং চাল প্রসেস করার কাজে ঝুট ও তুষ পুড়িয়ে আসছেন। এতে ছাইযুক্ত কালো ধোঁয়া আশপাশের বাড়িঘরে ভরে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে রান্না করা খাবার।
আবার সড়কের পাশে স্তূপ করে ফেলে রাখা ছাই বাতাসে উড়ে পথচারীদের চোখেমুখে ঢুকছে। চোখে ছাই ঢুকে অনেক মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন।
বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, জিল্লু বিশ্বাসের রাইস মিল থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উড়ে বাড়িঘরে পড়ছে। বাতাস হলেই চোখেমুখে ঢুকে যাচ্ছে ছাই। একদিকে পরিবেশদূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই ভোগান্তির বিষয়ে গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় এমপি আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা মিলমালিক জিল্লু বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা মামুন মণ্ডলসহ এলাকাবাসীদের গালিগালাজ করেন। এতে এলাকাবাসীর সঙ্গে জিল্লু বিশ্বাসের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এখন বিষয়টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে প্রতিবাদ করতে যাওয়ার ঘটনাটিকে চাঁদাবাজি বলে প্রচার করছেন মিলমালিক জিল্লু বিশ্বাস ও তাঁর ভাই শামসুল বিশ্বাস।
আইকে রোডের যাত্রীবাহী অটোচালক শোহান হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও আরজু বিশ্বাস জানান, রাস্তার পাশে ফেলে রাখা ছাই একটু বাতাস হলেই উড়ে যাত্রীদের চোখেমুখে ঢুকছে। ছাইয়ের কারণে যাত্রীরা চোখ বন্ধ করতে পারলেও চালকদের চোখ বন্ধ করে গাড়ি চালানো সম্ভব হয় না।
ঈশ্বরদীর গকুলনগর ও শেরশাহ রোড চক্ষু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক মাসে চোখে ছাই নিয়ে কয়েক শ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।
মামুন মণ্ডল বলেন, ‘আমি নিজেও এই এলাকার বাসিন্দা। এলাকার লোকজন এমন ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদের নিয়ে আমি গত শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজ শেষে মিলমালিক জিল্লু বিশ্বাস ও তাঁর ভাই শামসুল বিশ্বাসের নিকট গেলে তারা গালিগালাজ করাসহ হট্টগোল শুরু করে। পরে সেই হট্টগোলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদাবাজি হিসেবে ছড়িয়ে আমার ও আমার পরিবারের মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে মেসার্স বিশ্বাস রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী জিল্লু বিশ্বাস ও তাঁর ভাই শামসুল বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তাঁরা বলেন, ‘বিগত সাত বছর ধরে আমাদের মিলটি চলছে। কখনোই ছাইযুক্ত কালো ধোঁয়া বের হওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। মিলের বর্জ্যপানিও আমাদের নিজস্ব জমিতেই ফেলা হয়। কিছু পানি পাশের জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলেই ফেলা হচ্ছে।’
স্থানীয় মামুন মণ্ডল এলাকাবাসীকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা মানববন্ধন করেছেন দাবি করে জিল্লু বিশ্বাস আরও বলেন, ‘মামুন মণ্ডল ও তার লোকজন আমার ভাইকে পিটিয়ে আহত করেছে। তার ভয়ে আমরা থানায় পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেওয়ার সাহস পাইনি। ঘটনাটি এমপি আবু তালেব মণ্ডলকে অবগত করা হয়েছে, তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’
পাবনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল গফুর বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে কোনোভাবেই যত্রতত্র কোনো কারখানার ছাই ফেলে রাখতে পারবে না। চিমনি দিয়েও ছাই বের করে বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করার নিয়ম নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।