পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-৫ আসন (সদর)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে লড়বেন চারজন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইনের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত। তবে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১৩২ মামলা ছিল। এর মধ্যে ১১৫টি থেকে রেহাই পেলেও এখনো ১৭টি মামলা চলছে। অপর দিকে ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ছিল ২২ মামলা। ২১টি মামলা থেকে রেহাই পেলেও একটি এখনো ঝুলছে।
প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। শিমুল বিশ্বাসের বছরে আয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। নিজের কোনো গাড়ি নেই। বর্তমান পেশা সমাজসেবা এবং দৈনিক দিনকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে ১৩২টি মামলা ছিল, তার মধ্যে ১৫টি মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার করেছে। ২৪টি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ৭৬টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। এখনো চলমান ১৭টি মামলার মধ্যে ছয়টি তদন্তাধীন এবং ১১টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।
শিমুলের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক আয় প্রায় ২৪ হাজার টাকা। চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ আছে ৮২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। ব্যবসায়িক মূলধন ১৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। সঞ্চয় বা স্থায়ী আমানত আছে ৪৪ হাজার টাকার। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।
মামলার বিষয়ে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদ সরকার এসব মিথ্যা মামলা দিয়েছে। জেলজুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। আমি যে মজলুম পাবনার জনসাধারণ জানে। তাই মামলার বিষয়টি ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। আশা করি, ভোটাররা ইতিবাচক হিসেবে নেবেন।’
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। পেশা শিক্ষকতা। ইকবালের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। মামলাটি প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া তাঁর এর আগে ২১টি মামলা ছিল। এগুলোর মধ্যে ১৪টি থেকে অব্যাহতি ও সাতটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি।
ইকবালের কৃষি খাত থেকে বছরে আয় ২৫ হাজার টাকা। শিক্ষকতা পেশা থেকে বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৭ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর নিজের নামে রয়েছে নগদ ২৩ লাখ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ইকবালের রয়েছে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ১৬৫ শতক জমি। অকৃষি জমি আছে ১৫ দশমিক শূন্য ২ শতক। একতলা একটি বাড়ি রয়েছে তাঁর। স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদ আছে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ৬৩ শতক জমি। অকৃষি জমি হেবা মূলে ৪ দশমিক ৯৫ শতক।
মামলার বিষয়ে ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সময়ে পাবনা জেলায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৭শ মামলা ছিল। আমার বিরুদ্ধে যে মামলা ছিল, তা রাজনৈতিক ও মিথ্যা মামলা, জেল খেটেছি। এতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পাবনার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতীন খান বলেন, ‘যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তার বিপরীত মতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নানাভাবে মামলা-হামলা করে। এটি বাংলাদেশে যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বিদেশে থাকলেও মামলা হয়। তাই মামলার বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।’