প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে দিনাজপুর থেকে পাবনা গিয়েছিলেন কবিরুল ইসলাম। পরে এক ঘরে অবস্থানরত দুজনকে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এরপর তাদের অমানবিকভাবে গাছের সঙ্গে হাত-পায়ে দড়ি ও শিকল বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়েরদায়ের গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। যে ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে কবিরুলের সঙ্গে ওই গ্রামের সুমি খাতুন নামে এক তরুণীর পূর্বপরিচয় ছিল। মঙ্গলবার কোনো এক সময় কবিরুল ওই তরুণীর বাড়িতে আসেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। বুধবার সকালে একটি ঘরের ভেতরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করে। পরে উত্তেজিত অতি উৎসাহী জনতা তাদের দুজনকে গাছের সঙ্গে রশি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে।
এ দিকে অভিযুক্ত এই তরুণ–তরুণীকে অমানবিক বেঁধে রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, সেখানে নেটিজেনদের অনেকেই নানা–রকম মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া নির্যাতন না করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পাবনা জেলা মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি একটি অমানবিক কাজ। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এমন কাজ নিন্দনীয়। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনা জেনেছি। কিন্তু ঘটনাস্থল আমার না হওয়ায় বিষয়টি সদর থানাকে জানানো হয়েছে।’
এদিকে পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বিষয়টি জানা নেই। আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। খোঁজ–খবর নিয়ে দেখছি।’