কৃষকসহ বিলাঞ্চলের মানুষের কষ্টের কথা ভেবে ২৫ বছর আগে বিলের মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয় সাবমারসিবল বা ডুবো সড়ক। এখন সেই আশাজাগানিয়া সড়কটি যেন দুর্ভোগের আরেক নাম। সংস্কার না করায় ভাঙাচোরায় সড়কটিতে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বিশাকোল গ্রামে এই সড়কের অবস্থান। চলনবিলবেষ্টিত ভাঙ্গুড়া থেকে নওগাঁ যাওয়ার বিকল্প ও সহজ এই সড়ক ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।
২০০০ সালের দিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিশাকোল থেকে সাতবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সাব মার্সিবল বা ডুবো সড়ক নির্মাণ করা হয়। বছরের একটি সময় পানির নিচে থাকায় সড়কটি দিনে দিনে ভেঙে যায়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের মাঝে থাকা একটি কালভার্ট ভেঙে দেবে গেছে। ভাঙা অংশে পানি জমে কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। এই সড়কের কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে কাদা জমে রয়েছে।
কোনো ধরনের সতর্কতামূলক চিহ্ন বা নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে।
স্থানীয় কৃষক শাজাহান আলী বলেন, ‘এই রাস্তা ভালো থাকলে আমরা সহজেই ফসল বাজারে নিতে পারতাম। এখন অনেকদূর ঘুরে যেতে হয়, এতে খরচ বাড়ে, লাভ কমে যায়। অনেক সময় ফসল নষ্টও হয়ে যায়। আমরা অনেক কষ্টে চলাচল করছি। আমাদের গলার কাঁটা হয়ে গেছে সড়কটি।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সড়ক শুধু বিশাকোল গ্রামের মানুষেরা ব্যবহর করেন, এমনটা নয়। আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষেরাও এটি ব্যবহার করেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক দিয়ে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এ ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
বাঁশবাড়িয়া গ্রামের গাড়িচালক আব্দুর রহিম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আগে সহজেই যাতায়াত করতাম। এখন ব্রিজ ভাঙা থাকার কারণে ৬-৭ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে যায়। তেমনি আবার তেলের খরচও বেড়ে যায়।
অটোরিকশাচালক শুকুর আলী বলেন, ‘সড়ক ভেঙে যাওয়ায় অন্যের জমির আইল দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়। যা খুবই কষ্টসাধ্য। একটু ভুল হলেই গাড়ি উল্টে যেতে পারে। আমরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করি। অনেক যাত্রীই গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।