Ajker Patrika

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, ৩ জনের প্রাণহানি

পাবনা প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৬: ৩৫
পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, ৩ জনের প্রাণহানি
অভিযুক্ত নাইমের বাড়িতে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনা সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণ ও হত্যার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া গ্রামের শুকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাইম প্রামানিক (২২), শফিক শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ (২১) ও শিমুল প্রামানিকের ছেলে তুহিন প্রামানিক (২০)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাড়ারা এলাকার পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত নাইমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত পক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধ ব্যক্তিরা সবাই প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পীরপুরে পদ্মা নদীতে ওই স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত ছাত্রীর ভাই খালিদ হাসান বাদী হয়ে ৪ জুন তিনজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত