নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। আজ শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ দল ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী ও এর অববাহিকায় দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিক। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।
সভা শেষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রকল্পের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে বিদেশি সহায়তার জন্য অপেক্ষা না করে নিজস্ব অর্থায়নেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এর আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা নীলফামারীর ধাইজান, চরালকাটা, সাতজান ও নাউতারা নদী এলাকা পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের বিভিন্ন স্থাপনাও ঘুরে দেখেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচসুবিধা সম্প্রসারণ এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।