নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। ভাতিজির বিয়েতে নানা কাজের ব্যস্ততায় কেউ খেয়ালই করেননি নিজাম উদ্দিনের ছোট দুটি সন্তান কোথায়। প্রতিবেশির চিৎকার, চেঁচামেচিতে যখন খেয়াল হলো, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাড়ির সামনের পুকুরে ভাসমান দুই মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায় হ্যান্ডট্রলি চালক নিজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিনের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে শিশুদের মা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। একই সময়ে বাবা নিজাম উদ্দিনও বিয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে দুপুরে দুই বোন বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।
কিছু সময় পর পুকুরে একটি শিশুকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী মিজানুর রহমান বলেন,`নিজাম উদ্দিনের দুটি মেয়েই ছিল, তার আর কোন সন্তান নেই। এমন ঘটনায় বিয়েবাড়ির আনন্দ বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।'
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও তারা সেটি করেননি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, “অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পুলিশকে অবহিত করার জন্য হাসপাতালে একাধিকবার মিটিং করে চিকিৎসকসহ সবাইকে বলেছি। কিন্তু তারা সেই কথা আমলে নিচ্ছে না। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, “এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি পুলিশ জানানো প্রয়োজন। দায়িত্বরতদের অবহেলার বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করছি তিনি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”