নেত্রকোনার সদর উপজেলার কান্দুলিয়া কালীবাড়ী এলাকায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের আটক করে। এ সময় নগদ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭০ টাকা, একটি পিকআপ ভ্যান ও লড়াইয়ে ব্যবহৃত একটি ষাঁড় জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কের পাশে কান্দুলিয়া কালীবাড়ী এলাকার একটি পতিত জমিতে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করে জুয়া খেলা চলছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মডেল থানার একটি টহল দল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি একটি পিকআপে করে একটি ষাঁড় নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ষাঁড়সহ পিকআপটি জব্দ করে এবং ১৫ জনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন জেলার সদরের পশ্চিম উলুয়াটী এলাকার আব্দুল বারেক (৩৭), মো. কাজল মিয়া (৩৫), মো. রহিজ (৪৫), মন্টু রবি দাস (৪৫); পূর্বধলা উপজেলার মো. রাসেল মিয়া (২৬), মো. রাসেল (৪০), মো. শফিকুল (৪৫), মো. বেলাল হোসেন (৪৫), মো. রাব্বী মিয়া (২৫), মো. এনামুল হক (৩০), মো. সুজন মাহমুদ (৩৫), মো. আল আমিন (৪০), আবুল কালাম (৪০) এবং ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলার মো. কামাল মিয়া (৫০) ও মো. হারেজ মিয়া (৫০)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭০ টাকা। এ ছাড়া একটি পিকআপ ভ্যান ও আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে ষাঁড়ের লড়াই পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনের ১১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।