নেত্রকোনার পাঁচটি সংসদীয় আসনে সব কটিতেই দলীয় প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। শরিকদের জন্য একটি ছাড় দিয়ে চারটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ফলে জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। যদিও একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আছে দলটি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিপুল ভোট কোন দিকে যাবে, সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না। তাদের ভোট নির্বাচনের মোড় বদলে দিতে পারে।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)
এই আসনে বরাবরই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল বিএনপি। এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় সক্রিয় আছেন তিনি।
এই আসনে জামায়াতের জোট শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হয়েছেন গোলাম রব্বানী। একসময়ে আওয়ামী লীগ করা গোলাম রব্বানী ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এই আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা)
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সভাপতি চিকিৎসক মো. আনোয়ারুল হক। এর আগেও বিএনপির মনোনয়নে লড়াই করেছেন তিনি। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক জেলা আমির এনামুল হক। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে জামায়াত এখানে বেশ সক্রিয়। পটপরিবর্তনের পর বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল, জামায়াত তা করেনি। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে জনপ্রিয় ব্যক্তি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, এনসিপি থেকে কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান প্রার্থী হয়েছেন। এই শরিক দলের জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনা আছে এনসিপির।
বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল হক বলেন, ‘আমি মনোনয়নের আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়। শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে না, চিকিৎসক হিসেবেও মানুষের পাশে থেকেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া)
আসনটিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগাভাগি হবে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসনটি জয়ে কৌশলে এগোচ্ছে জামায়াত।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগী। বিএনপির ভোট ভাগাভাগির সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে জামায়াত।
নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী)
হাওরবেষ্টিত তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটির রাজনীতি এখন একচ্ছত্রভাবে বিএনপির দখলে। আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছেন তিনি। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার। প্রচারের মাঠে তিনিও আছেন।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা)
এই আসন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইতিপূর্বে বেশিবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তবে প্রতিবারই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিএনপি। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার। আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও বসে নেই। দলীয় প্রার্থীর অনুকূলে দাঁড়িপাল্লার ওজন ভারী করতে তাঁরাও ব্যাপক তৎপর। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুম মোস্তফা।