নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার অপূর্বকে (২২) ফের চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে গতকাল সোমবার তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দুই দফায় তাঁর মোট পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলো।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে অপূর্বর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর দুর্গাপুর পৌর শহরের পুরাতন সিনেমা হলের সামনে থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দিনের বেলায় আত্মগোপনে থাকতেন এবং গভীর রাতে বের হতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পরদিন রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুল আমিন ভূঁইয়া এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশের দাবি, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় অপূর্ব ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় অস্ত্রভর্তি একটি ব্যাগ তাঁর হেফাজতে ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপূর্ব হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন শুটারের ভাগনে। ওই সন্দেহভাজনকে পেশাদার খুনি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো অপূর্বর হেফাজতে রাখা হতো বলেও তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকানে চা পান করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।