নাটোরের গুরুদাসপুরে জাহেরা বেওয়া (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সোনাবাজু গ্রামের নিজ শয়নকক্ষ থেকে বুধবার রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খবির উদ্দীন (৫৬) ও হাসেম আলী (৫৭) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আটক দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
নিহতের ছেলে জাকির হোসেনের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পুলিশ হেফাজতে থাকা খবির উদ্দীন, হাসেম আলী ও আলাল হোসেনের কাছ থেকে সুদের ওপর তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা আদায়ের জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বুধবার তিনি স্ত্রীকে নিয়ে এলাকার বাইরে ছিলেন। রাতে বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
জাকির হোসেনের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে আটক ব্যক্তিরা জড়িত থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে ওসি মনজুরুল আলম বলেন, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। আটক দুজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।