নাটোরের গুরুদাসপুরে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে ইমামুল ইসলাম (২০) নামে এক তরুণ ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসেছে। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছে না গরিব বাবা। সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার।
ইমামুলের বাড়ি উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ গ্রামে। তাঁর বাবা সুজন আলী পেশায় কৃষক। সন্তানের পাশাপাশি স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০) ও বৃদ্ধ মা আবেদা বেগমও নানা রোগে আক্রান্ত। ইমামুল গত এক সপ্তাহ ধরে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
সুজন আলীর ভাষ্যমতে, ছেলেসহ পরিবারের ৪ সদস্যের চিকিৎসা করাতে গিয়ে একমাত্র আয়ের উৎস মুদি দোকান ও ২ বিঘা জমি বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এখন দিনমজুরি করে কোনোমতে জীবন বাঁচলেও তাঁদের উন্নত চিকিৎসা করানোর মতো অবস্থা তাঁর নেই।
গুরুদাসপুর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিরল রোগে আক্রান্ত ছেলে ইমামুলকে ঘিরে বাবা সুজন আলী ও মা শিল্পী বেগম বসে আছেন। উন্নত চিকিৎসার অভাবে ২০ বছরের তরুণ শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালের দেওয়া চিকিৎসায় কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
ইমামুলের মা শিল্প বেগম বলেন, ‘১৫ বছর পর্যন্ত ইমামুল ইসলাম সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডায়াবেটিকস, লিভার ও কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসা নিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিয়েও ছেলের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আমাদের জমি ও মুদি দোকান বিক্রি করতে হয়েছে।’
ইমামুলের বাবা সুজন আলী জানান—একমাত্র সন্তান, স্ত্রী আর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে ৪ সদস্যের সংসার তাঁর। স্ত্রী অসুস্থ, বৃদ্ধ মা প্যারালাইজড। চিকিৎসার খরচ জোগানো তো পরের কথা, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। অনেকটা নিরুপায় হয়েই ছেলেকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশবাসীর কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
গুরুদাসপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এসএম আলমাস বলেন, ‘ইমামুলকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁকে ভালো কোনো জায়গায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে পরিবারটিকে সাধ্যমতো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।