নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের কিন্তু সেতু হয় না। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে ঝুঁকিও বাড়ে, ঘটে দুর্ঘটনা। নিরাপদ পারাপার করতে নদীর আড়াআড়ি রশি টানিয়ে নৌকা পাড় হতে হয়।
নাটোরের গুরুদাসপুরে গুমানী নদীতে এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে তিন জেলার সাত গ্রামের মানুষের। কৃষক, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত।
জানা গেছে, উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা বাজার সংলগ্ন এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার প্রায় ৩৫-৪০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নলডাঙ্গা ও হামকুড়া, পাবনার চাটমোহরের এনায়েতপুর, গুরুদাসপুরের বিলব্যাসপুর, বিলকাঠর, রানীগ্রাম ও ইয়াসিনপুর গ্রামের মানুষ নদীর খেয়া ঘাট দিয়ে পারাপার হন। বেশি দুর্ভোগের শিকার হন কৃষকেরা। তাঁদের উৎপাদিত ফসল মাথায় অথবা গরু-মহিষের গাড়িতে খেয়াঘাট পর্যন্ত নেওয়া গেলেও নদী পার হতে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।
সম্প্রতি খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কেউ বিদ্যালয়ের পোশাক পরিধান করে ব্যাগ কাঁধে, হাঁটে যাওয়ার জন্য কারও মাথায় সবজি ভর্তি ঝুড়ি। কেউ বা আবার হাসপাতালে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। সবার গন্তব্য আলাদা, কিন্তু অপেক্ষা একটাই—খেয়াঘাটের ‘রশি টানা নৌকা’।
এ সময় কথা হয় আফজাল হোসেন, মহব্বত আলী ও হারেজ আলীর সাথে। তাঁরা জানান, নদীর উত্তর-পূর্ব এলাকায় স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও হাসপাতাল কিছুই নেই। সব নদীর পশ্চিম পাড়ে গুরুদাসপুর উপজেলায়। ফলে রশি টেনেই খেয়া পার হয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। শুকনো মৌসুমে সেখানে বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়।
আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে নদী উত্তাল থাকে। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে প্রাণহানীসহ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এখানে একটি সেতু হলে এলাকার যোগাযোগ ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।’
আব্দুস সালাম সরকার ও দবির উদ্দিন বলেন, ‘এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ দিনের। অনেক জনপ্রতিনিধি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।’
কাছিকাটা হাঁট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মানিক শাহ্ বলেন, ‘বর্ষাকালে নদী উত্তাল হওয়ায় একজন মাঝি রেখেছি। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এতে যাত্রীদের সাময়িক সুবিধা হলেও ঝুঁকি থেকেই যায়।’
মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী বলেন, ‘চলনবিলের কৃষি সম্ভাবনাকে ঘিরে এখানে একটি রাবারড্যাম কাম ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন বিগত সরকার। সার্ভেও হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।’
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) গুরুদাসপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নদীর ওপর সেতুর পাশাপাশি একটি রাবারড্যাম নির্মাণ করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এতে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন মিললে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’