উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে চার মাস আগে সাইপ্রাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন নরসিংদীর যুবক শাহারিয়ার আহাম্মদ ইমন (২২)। পরিবারের আশা ছিল, লেখাপড়া শেষে তিনি বদলে দেবেন পরিবারের ভাগ্য। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ডে। অপহরণের ১০ দিন পর গত রোববার গ্রিক সাইপ্রাসে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মরদেহ।
ইমনের নিহতের খবর তাঁর গ্রামের বাড়ি রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুরে পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। তিনি ওই এলাকার গ্রিসপ্রবাসী নাসির উদ্দীনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে গ্রিক সাইপ্রাসে যান ইমন। ১২ জুন সাইপ্রাসের ওরোক্লিনি এলাকা থেকে কোফিনু অঞ্চলের একটি কারখানায় পার্টটাইম কাজে যোগ দিতে রাত ৯টায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর নিখোঁজ হন। ৪৮ ঘণ্টা পর তাঁর বাবার মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ৩৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি প্রায় ৫০ লাখ টাকা) দাবি করে অপহরণকারীরা। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর সন্ধান এবং উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও খোঁজ পাননি। ১০ দিন পর ২১ জুন সাইপ্রাস পুলিশ ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্তের দাবি, একসময় ইমন তাঁকে অপমান করেছিলেন। সেই প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা। ঘটনার দিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরোক্লিনি এলাকা থেকে কৌশলে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে হত্যা করে একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ছেলেকে হারিয়ে বাক্রুদ্ধ মা। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন।
নিহতের মামা ফারুক মিয়া বলেন, ‘সাইপ্রাসে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশির মাধ্যমে আমরা ইমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। গ্রেপ্তার যুবক পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’