নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে শিশুসন্তানদের সামনে মা ও বাবাকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ ছয় আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে তাঁরা জামিন আবেদন করলে বিচারক প্রত্যেককে ১০০ টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ-আল-মাসুমের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওই ছয় আসামি।
জামিন পাওয়া সাখাওয়াত ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন হিরণ (৩৮), খোরশেদ আলম (৪০), রাসেল ব্যাপারী (৩৫), আলামিন শাহা (৩৯) ও বিল্লাল হোসেন (৩৮)।
এদিকে মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে সাখাওয়াত হোসেনের লোকজন আমাকে আটকে রাখেন। আমাকে আদালতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ালে তাঁকে আদালতে কাজ করতে দেওয়া হবে না, এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি লিগ্যাল এইডের কাছে সহায়তা চেয়েছি। তারা পরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’
তবে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান বলেন, ‘মামলার বাদীকে আদালতে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি বাদী এমন অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে তিনি সেটা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
জামিন শেষে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সামনে নির্বাচনকে ঘিরে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইমেজ নষ্ট করতে এই মামলা করেছে।’
এর আগে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য রাজিয়া সুলতানার স্বামী ইরফান মিয়া আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন। ২৬ অক্টোবর ওই মামলায় শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে ইরফান মিয়া, তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও তাঁদের দুই শিশু-কিশোর সন্তানের ওপর সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এই হামলার সমালোচনা করেন। ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ এ বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার মামলা গ্রহণ করে।