নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জেরা মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যানটিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধের ঘটনায় কাওসার (৩০) নামে আরও একজন মারা গেছেন। তিনি ওই ক্যানটিনের কর্মচারী ছিলেন। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হলো।
আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাওসারের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালিও দগ্ধ হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভর্তিদের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তির দিন বুধবারই ছুটি দেওয়া হয়েছে। নাজমুল নামে একজন বেসরকারি হাসপাতালে চলে গেছেন। বর্তমানে সুপ্রভাত ঘোষ ১২ শতাংশ ও আল আমিন ২২ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছেন।
মৃত কাওসারের চাচাতো ভাই মো. ফয়সাল জানান, তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সন্দীপ উপজেলার বাউশিয়া গ্রামে। কাওসারের বাবার নাম মো. জমশেদ। বর্তমানে সোনারগাঁও এলাকাতেই থাকতেন এবং ওই ক্যানটিনে কাজ করতেন।
গত বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এতে দগ্ধ হন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা নাজমুল আলম খান (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) ও বদরুল হায়দার (৫০) এবং ক্যানটিন কর্মচারী মো. আমির (২৫) শংকর (২৫) কাওছার (৩০) ও আল আমিন (৪৫)।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের খাবারের জন্য ক্যানটিনে সিরিয়াল ধরেছিলেন কর্মকর্তার-কর্মচারীরা। তখন কিচেনের ভেতরে বিস্ফোরণে ক্যানটিন বয়সহ ১২ জন দগ্ধ হন। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
ফখরুল ইসলাম আরও জানান, রান্না শেষে কেউ একজন গ্যাসের চুলা চালু করে রেখেছিল। এরপর ম্যাচ জ্বালাতেই বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়।