ময়মনসিংহে আবদুর রাজ্জাক রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াছিন আরাফাত শাওনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে ছয়জনকে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শুক্রবার বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক স্মরণিকা পাল তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি দুজনকে আগামীকাল শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রিমান্ড মঞ্জুর করা আসামিরা হলেন নগরীর সেহরা চামড়াগুদাম এলাকার ইয়াসিন আরাফাত শাওন (৩২), তাঁর বড় ভাই মো. মাসুদ পারভেজ (৩৪), মো. মানিক মিয়া (৩২), মো. শান্ত (২০), মো. মমিন (৩৩) এবং সানকিপাড়া এলাকার মো. আনিসুর রহমান (৩৩)।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক ঝুটন কুমার বর্মণ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আদালত এক আদেশে ছয়জনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ছয়জনের রিমান্ড একই সঙ্গে চলবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, গত শনিবার রাতে নগরীর শম্ভুগঞ্জের চায়নামোড় টোলবক্স এলাকায় মাইক্রোবাসকে সাইড না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাকচালককে মারধর করেন শাওন ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক রাকিব নামের এক যুবক। এ সময় আহত হন বাসচালক সাদেক আলী ও শহীদ মিয়া।
ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় স্থানীয়রা মাজহারুল ইসলাম নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ওই দিন রাতে ইয়াসিন আরাফাত শাওনকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন নিহত রাকিবের মা হাসি বেগম। মামলার পাঁচ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে র্যাবের একটি দল আজ ভোরে জেলার ত্রিশাল উপজেলার উজানভাটিপাড়া এলাকা থেকে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন নগরীর পুরোহিতপাড়া এলাকার মো. প্রান্ত (২২) ও সেহরা ডিবি রোড এলাকার মো. রাহাত (৩০)।
গ্রেপ্তার দুজনকে র্যাব আজ দুপুরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আগামীকাল শনিবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান ওসি ফারুক আহমেদ।