জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জুতা পায়ে ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া মেম্বার প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা। এ বিষয়ে নিষেধ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চরাও হন সমর্থকেরা। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ভিডিও করতে গেলে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি আল-আমিন হোসেন আবির ও দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি সোহাগ হোসেন মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকেদের তোপের মুখে পড়েন।
জানা যায়, আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ নিতে আসা ২ নম্বর কড়ইচড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী এনামুল হক ও তাঁর সমর্থকেরা মঙ্গলবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে আসেন। এ সময় ঘটনাস্থলে সিগারেট খাওয়া ৭ নম্বর সিধুলী ইউনিয়নের চরবয়ড়া এলাকার যুবক নজরুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে সিগারেট ও জুতা পায়ে দাঁড়ানোর বিষয়ে বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের চড়াও হন এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। সেই সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এইরকম সাংবাদিক আমরা পকেটে রাখি।’
মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জুতা পায়ে প্রবেশ ও ধূমপান করার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিলকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
একজন মেম্বার প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননা ও তাঁর সমর্থকেরা সাংবাদিকদের ওপর উত্তেজিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা লিখিত অভিযোগ দেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।’
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত ও অপমানজনক কথা বলায় মাদারগঞ্জের সুধী সমাজ ও সাংবাদিক সমাজে নিন্দা জানিয়েছে। মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, সাংবাদিকেরা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে অপমানের শিকার হবেন এটা মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের বিচার দাবি করছি।