ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের কংস নদের বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
সেদিন রাতেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতির সময় গোসল করাতে নিয়ে গেলে শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত দেখতে পান স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়াকে (১৯) সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তনয় সাহার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাঁরা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। সেই স্বীকারোক্তি ও সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যাতে এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।’