হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে ৫০ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসেও স্থাপন হয়নি আইসিইউ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ভিড়। ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় তিন মাসে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মমেক হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। মারা যাওয়া শিশুটি ১০ মাস বয়সী ছেলে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। ২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তাকে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর কারণ সাসপেক্টেড হামের পাশাপাশি সেপটিক শক, নিউমোনিয়া ও বাঁ ফুসফুসে পানি জমা।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে। তবে এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি কেউ। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১০০ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাসপাতালে ২ হাজার ৬২ জন হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ১ হাজার ৯১২ জন। তবে এর বিপরীতে মৃত্যুর হার অর্ধশত স্পর্শ করায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা।

শিশুদের আইসিইউ না থাকায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের যখন অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়, তখন বিকল্প হিসেবে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করার কথা জানান মমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মাজহারুল আমিন। তিনি জানান, আইসিইউর বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের একটি পানির বোতলের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। নবজাতকদের শ্বাসকষ্ট দূর করতে এটি বিশেষ নন-ইনভেসিভ (যন্ত্র ছাড়া) কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক পদ্ধতি।

মাজহারুল আমিন আরও জানান, বাবল সিপ্যাপ তৈরিতে সরকার প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং বাবল সিপ্যাপ সরবরাহ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী যে বাচ্চাদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, স্বাভাবিক অক্সিজেনে যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা কমে যায়, সেই বাচ্চাদের সাধারণত বাবল সিপ্যাপ দেওয়া হয়।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘হামে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে আমাদের চিকিৎসকেরা দিন-রাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশই একদম শেষ মুহূর্তে, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে, তখন ভর্তি হচ্ছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির ক্ষেত্রেও হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া এবং সেপটিক শকের মতো মারাত্মক জটিলতা ছিল।’

শিশুদের তীব্র জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ বা গুটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

মমেক হাসপাতালের উপপরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইসিইউর জন্য আবেদন করেছি। সরকার থেকে বরাদ্দ পেলেই আইসিইউ স্থাপন করা হবে। তবে হাসপাতালে জনবল-সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তা নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

ত্রিশাল মহিলা বিপণিকেন্দ্রের দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ, রাজস্ববঞ্চিত পৌরসভা

রাস্তা বন্ধের অভিযোগে ত্রিশালে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-সমাবেশ

মাদক কারবারের অভিযোগে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পরও নাকুগাঁও স্থলবন্দরে লোড-আনলোড বন্ধ, টানা দ্বিতীয় দিনের অচলাবস্থা

সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি, মোতায়েন হচ্ছে ভিডিপি

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও রিলিফ ট্রেন লাইনচ্যুত, সাড়ে তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, উদ্ধারে যাওয়া রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ট্রেনের পাওয়ার কারের চাকা লাইনচ্যুত, ময়মনসিংহ-জামালপুর ট্রেন চলাচল বন্ধ

জন্মদিন উদ্‌যাপন শেষে ফেরার পথে খুন ছাত্রলীগ কর্মী

টিকা না নেওয়া শিশুরা হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে