শোকসংগীত আর স্মৃতিচারণে শিক্ষাবিদ-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকারকে বিদায় জানিয়েছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ময়মনসিংহ জেলা সংসদ। আজ বুধবার নগরীর নতুন বাজার উদীচী কার্যালয়ে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে যতীন সরকারের মরদেহ উদীচী কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁর প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিচার বিভাগ, কমিউনিস্ট পার্টি, বিভাগীয় চারুশিল্পী পর্ষদ, ছাত্র ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকনসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কবি ও সাহিত্যিক অঙ্গনের মানুষজন। শোকসংগীত ও স্মৃতিচারণে অংশ নেন তাঁরা।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে যতীন সরকারের মরদেহ নিয়ে নেত্রকোনার উদ্দেশে উদীচী কার্যালয় ত্যাগ করে অ্যাম্বুলেন্স।
উদীচীর ময়মনসিংহ জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার কামাল রবিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যুগে পর যুগ গেলেও এমন মানুষের দেখা পাওয়া যায় না। আমরা যা হারিয়েছি, তা কখনো ফিরে পাব না। তবে তাঁর পথ অনুসরণ করে চলতে হবে সবার।’
শামীম আশরাফ নামের এক তরুণ বলেন, এই শোক সইবার নয়। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্রের প্রয়াণ বড় ক্ষতি হলো বাংলাদেশের। তাঁর কর্মের মধ্যেই তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
এর আগে আজ বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ২০১০ সালে স্বাধীনতা পদক এবং ২০০৭ সালে বাংলা একাডেমি পদকে ভূষিত হন তিনি। নেত্রকোনার সাতপাই এলাকায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।