ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্কের বিপরীত দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে আটকে থাকা অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টাউন হল চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেন তাঁরা।
জানা গেছে, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্ধু রিফাতের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন শাওন। ছিনতাইকারীরা তাঁদের মারধর করলে জীবন বাঁচাতে দুই বন্ধু দুই দিকে দৌড় দেন। রিফাত প্রাণে বাঁচলেও শাওন নিখোঁজ হন। এর পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান পায়নি। অবশেষে গতকাল রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নদের চরে তাঁর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় পানিতে ডুবেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।
শাওনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রাত ১২টার দিকে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ টাউন হল চত্বর অবরোধ করেন। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনের সব গাড়ি আটকা পড়ে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি, শাওনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তা ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হাসান বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠলেও নির্বিকার প্রশাসন। এমন প্রশাসন আগে কখনো দেখিনি। আমরা ছিনতাই-মাদকমুক্ত নগরী চাই।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।