ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চার তরুণ-কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে সবাই ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ওই চারজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন মো. হোসাইন (২১) ও মো. মেহেদী হাসান (২০)। তাঁদের সবার বাড়ি ভালুকার পাঁচগাও এলাকায়। অপর দুজন কিশোর বয়সী।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। শৈশবে বাবা-মাকে হারানো এই কিশোরী সৎমায়ের নির্যাতন সইতে না পেরে দুই মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ময়মনসিংহের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ শুরু করে। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি আইডির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
গত শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে কিশোরী ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে একটি নির্জন খালের পাড়ে নিয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে তারা চারজনে দল বেঁধে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।