ঈদের ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়েও একই বিড়ম্বনার শিকার তারা। হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত ২০০-৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
কয়েকজন যাত্রী বলেন, হালুয়াঘাট থেকে ঢাকায় ঈদের আগে বাসভাড়া ছিল ২০০-৩০০ টাকা, এখন তা ৫০০-৬০০ টাকা। হালুয়াঘাটের বাসগুলো আগে (মাওনা গাজীপুর পর্যন্ত) ১৫০ টাকা আদায় করত, এখন তা ৫০০ টাকা। ময়মনসিংহ পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ৬০-৮০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।
তবে বাস কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, হালুয়াঘাট থেকে ঢাকা সড়কে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া ৪৫৮ টাকা। ঈদ ছাড়া অন্যান্য সময় যাত্রীর সংকট থাকায় তাঁরা ২৫০-৩০০ টাকা নিয়ে থাকেন। তবে ঈদ উপলক্ষে মাত্র ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।
বিকেলে পৌর শহরের বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকে টিকিট না পেয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহ ভালুকার কোনো যাত্রীকে বাসে তোলা হচ্ছে না।
ঢাকায় এক কারখানায় কাজ করা পোশাকশ্রমিক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি আসছিলাম। কাল কারখানা খোলা। আজ চলে যেতে হচ্ছে। দুপুর থেকে বসে আছি। ভাড়া আগের চেয়ে ২০০ টাকা বেশি।’
ময়মনসিংহে যাবেন রিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহে যাব বলে বসে আছি দুই ঘণ্টা ধরে। কোনো বাসেই ময়মনসিংহের যাত্রী ওঠানো হচ্ছে না।’
ঢাকায় বেসরকারি একটি অফিসে কর্মরত নিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই ঈদ যাত্রায় যেন ভোগান্তি না থাকে। ২০০ টাকার ভাড়াও এখন ৫০০ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
শ্যামলী বাংলা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা শুভ বলেন, ‘আমাদের রেট ভাড়া ৪৫৮ টাকা। ঈদ উপলক্ষে ৫০০ করে নেওয়া হচ্ছে। কেউ অভিযোগ করে থাকলে তা পুরোটাই মিথ্যে। আমরা ৫০০-এর বেশি এক টাকাও নিচ্ছি না। আগে ঘাটতি দিয়ে ৩০০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করতাম।’
তবে অতিরিক্ত ভাড়া ও জনভোগান্তির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি।’