আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে চলাচলে ফের আট দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই ক’দিন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে কেনাকাটা সেরে নিতে ময়মনসিংহে ব্যাংক, শপিংমল ও কাঁচাবাজারে ভিড় করছে মানুষ। আজ সোমবার সকাল থেকেই দেখা গেছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কারো মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই।
আজ সকালে ব্যাংকপাড়া হিসেবে পরিচিত নগরীর ছোটবাজারে গিয়ে দেখা যায় ব্যাংকগুলোর কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষ।
অগ্রণী ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ফরিদ উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার থেকে সরকার কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিছে। ঘরে টাকা নাই, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাখতে হবে। যে কোনো সময় বিপদ আপদ আসতে পারে। মানুষ যে হারে আক্রান্ত হচ্ছে আমরাও বিপদের মধ্যে আছি। টাকা তুলতে এসেও বিড়ম্বনা। সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ১১টার সময় টাকা তুলতে পেরেছি।
তার আশঙ্কা, যে হারে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে, এখান থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ব্যাংকে স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষারও কোনো ব্যবস্থা নেই।
আরেক গ্রাহক হাসিব আহমেদ বলেন, সমস্যা না থাকলে ব্যাংকে আজকে আসতাম না। মানুষের ওপর মানুষ দাঁড়িয়েছে টাকা নেওয়ার জন্য। টাকা তুলতেও সময় লাগছে। ব্যাংকের সময় আরও বাড়ানো দরকার ছিল।
নগরীর মেছুয়া কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায় মানুষের হুড়োহুড়ি। ক্রেতা ও বিক্রেতা কারো মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই। মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি কেনাকাটা করছে। তাই সবজির দামও অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু বেশি।
নগরীর মিন্টু কলেজ মহল্লার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, কাল থেকে কড়াকড়ি লকডাউন। তাই আজকেই বাজার–সদাই করে রাখছি। পরে যদি ঘর থেকে বের হতে না পারি!
লাউ, কুমড়া, লালশাক, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, সাবান, লবণসহ ২০ ধরনের পণ্য কিনেছেন তাজুল ইসলাম। এক মাসের বাজার করে ফেলেছেন তিনি। সব পণ্যের দামও একটু বেশি।
রুহুল আমিন নামের এক সবজি ব্যবসায়ী জানান, দুপুরের মধ্যেই তার ৭০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি শেষ। তিনি বলেন, এভাবে কয়েকদিন বেচাকেনা করতে পারলে দুই মাস বইয়া খাইলেও চলতো!
ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি শংকর সাহা বলেন, সচেতন হওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করা হচ্ছে। তারপরও কেউ মানছে আবার কেউ মানছে না। মানুষ যদি নিজ এবং পরিবারের ভালো না বোঝে, আইন দিয়ে আর কতোখানি হয়!
তার মতোই হতাশা প্রকাশ করেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার। তিনি বলেন, সভা, সমাবেশসহ বিভিন্ন সময়ে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, আইন প্রয়োগও করা হচ্ছে, এরপরও মানুষ উদাসীন।