ময়মনসিংহ মেডিকেলে কলেজ (মমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আসমা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালে চালু করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড।
আজ মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় চালু হয় এই আইসোলেশন ওয়ার্ড। সেখানে ২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশু ও নয়জন নারী রয়েছে।
মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. ফরহাদ হোসেন হীরা বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত আসমা বেগম কিশোরগঞ্জের কমিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় থাকতেন। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভর্তি হলে সাড়ে ৫টার দিকে মারা যান। বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলেন। ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ রোগীই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে আক্রান্ত।
ডা. ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, টানা কয়েক দিন জ্বর, সর্দি ও জ্বর হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নয়তো ডেঙ্গুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। বর্তমানে হাসপাতালে যে কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন তাঁদের অবস্থা মোটামুটি ভালো। রোগী বাড়ায় মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসাধীন সকল রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডটি আরও প্রসারিত করা হবে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘ঢাকা থেকে ঈদে বাড়িতে ছুটিতে আসলে প্রথমে শরীরে জ্বর আসে। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে চিকিৎসকেরা খুব আন্তরিক।’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি জামালপুরের অজয় রায় নামের আরেক রোগী বলেন, ‘ডেঙ্গু শরীরের অবস্থা একেবারেই দুর্বল করে ফেলেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জানে বেঁচেছি। সব সময় এখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে আছি। তবে সিনিয়র চিকিৎসকেরা যদি ওয়ার্ডে দিনে অন্তত দুইবার আসত তাহলে আরও ভালো হতো।’
এদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ৩৩টি ওয়ার্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করেছেন। আজ সকালে নগরীর প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুল প্রাঙ্গণে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধনের সময় সিটি মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় এখনো ডেঙ্গুতে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে সারা দেশে যেভাবে ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে সে বিষয়টি মাথায় নিয়ে উড়ন্ত মশা নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলমান থাকবে।
প্রতিদিন ৩৩টি ওয়ার্ডে সকাল-বিকেল মশা নিধনে কাজ করা হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মেয়র।