গফরগাঁওয়ে নামাজের সময় উচ্চ স্বরে মাইকিংয়ের প্রতিবাদ করায় মসজিদের ইমামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় উপজেলার যশরা ইউনিয়নের বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেনের বাঁ চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আলেম-ওলামারা।
স্থানীয় সূত্র বলেছে, ঈদ উপলক্ষে সরদারবাড়ি এলাকায় মসজিদের পাশেই স্থানীয় যুবকেরা মেলার আয়োজন করেন। এশার নামাজের ওয়াক্তে মেলায় উচ্চ স্বরে মাইক বাজছিল। নামাজের ব্যাঘাত ঘটায় সরদারবাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ মাইক বন্ধের অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেলার আয়োজকেরা ইমামের ওপর চড়াও হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় ইমামকে। বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত পান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আলেম-ওলামারা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান একরাম উল্লাহ, খায়রুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জহিরুল ইসলাম উসমানী, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ফজলুল হক, মাদকবিরোধী ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ইউসুফ বিন মনির, ইত্তেফাকুল উলামা গফরগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নামাজের সময় মাইক বন্ধের অনুরোধ করা কোনো অপরাধ নয়। একজন ইমামের ওপর বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।’