দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানল দেড় বছরের শিশু রাফসান। প্রাণবন্ত শিশুটি জীবন শুরু না হতেই হামের কবলে পড়ে পরিণত হলো আরেকটি সংখ্যায়। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুটি। শিশুদের উপযোগী নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (পিআইসিউ) ব্যবস্থা না থাকায়ই ছেলের এমন মৃত্যু হয়েছে, বলছেন রাফসানের স্বজনেরা।
গত দুই মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গে ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, আইসিউ থাকলে হয়তো অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা পেত। চিকিৎসকদেরও কেউ কেউ এ ব্যাপারে তাঁদের সঙ্গে একমত।
রাফসান আয়ারের বাবা-মায়ের নাম পারভেজ মোশাররফ ও রুপা আক্তার। তাঁরা গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ির বাসিন্দা। একমাত্র সন্তান ছেলেটিকে সুস্থ করে তুলতে এই দম্পতি সীমিত সামর্থ্য নিয়ে গত দেড় মাস এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে অবিরাম ছুটেছেন। পারভেজ পেশায় চায়ের দোকানি।
শিশুটির বাবা পারভেজ মোশাররফ বলেন, গত মাসের মাঝামাঝি রাফসান জ্বর থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তখন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ দিন ভর্তি রাখা হয়। ২৬ এপ্রিল রাফসানকে হামের টিকা দেওয়া হয়। পরে জ্বর হলে তাকে মাওনা আল হেরা হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই দিন রাখার পর বাড়িতে নেওয়া হয় রাফসানকে। বাড়ি যাওয়ার তিন দিন পর আবার জ্বর আসে। আবারও আল হেরা হসপিটালে তিন দিন রাখা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ৫ মে চিকিৎসকেরা ময়মনসিংহে রেফার করেন।
রাফসানকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা।
বাবা পারভেজ আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টার কম করি নাই। আক্ষেপ শুধু একটাই, ময়মনসিংহ মেডিকেলে আইসিউ থাকলে হয়তো আমার ছেলে বেঁচে থাকত। বিভাগীয় শহরে শিশুদের আইসিউ নাই, এটা হতে পারে না।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাজহারুল আমীন বলেন, ‘অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বিশেষ করে তারাই মারা যাচ্ছে। যে কয়েকটি শিশু মারা গেছে, তারা আইসিইউ উপযোগী ছিল। হয়তো আইসিইউ থাকলে অনেকে বেঁচে থাকত।’
আইসিইউ না থাকায় শিশুমৃত্যু বাড়ছে বলে জানান হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা।
অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, ‘এই সময়ে আইসিইউর খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তাহলে হয়তো এত শিশুর মৃত্যু না-ও হতে পারত। শিশুদের আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।’
গতকাল সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকারের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৪ শিশু। ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে ১৭ শিশু। মোট ভর্তি ১০২ শিশু।