প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের দুই উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাভাষী ২২ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
গতকাল সোমবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে জেলার ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে তাঁদের পুশইন করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১২ জন নারী, দুই শিশু ও ৮ জন পুরুষ।
বিজিবি জানায়, ধোবাউড়ার মুন্সিপাড়া এলাকার সীমান্ত দিয়ে এক শিশু ও তিন নারীসহ ১২ জনকে পুশইন করলে আটক করে বিজিবি। অন্যদিকে হালুয়াঘাট উপজেলার সূর্যপুর সীমান্ত দিয়ে এক শিশু ও ৯ নারীকে পুশইনের পর আটক করে বিজিবি।
আটককৃতদের দাবি, গত ২৪ মে গুজরাট থেকে সেখানকার পুলিশ তাঁদের আটক করে। এরপর বিভিন্ন সময় তাঁদের মারধর করা হয়। এমনকি তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, আইডি কার্ড, আধার কার্ডসহ যাবতীয় মালামাল রেখে দেয়।
তাঁরা জানান, তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল, সিরাজগঞ্জ ও খুলনা জেলায়। ২০০৪ সালে দালালের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান তাঁরা। গুজরাটে বিভিন্ন দোকানে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকত্বও পান। তবে হুট করেই অভিযান চালিয়ে বস্তি ও বিভিন্ন দোকান থেকে তাঁদের আটক করে গুজরাট পুলিশ। কিছুদিন আটকে রেখে সোমবার রাতে মুন্সিপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পুশইন করেছে। পরে বিজিবি তাঁদের আটক করে।
এ ব্যাপারে বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভোররাতেই বিএসএফের কাছে আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি। আটক ব্যক্তিদের থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।