মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনঊষার উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহিদ আহমদ। ২১ এপ্রিল থেকে তার এসএসসি পরীক্ষা শুরু। তবে অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে লেখাপড়া করছে। পরীক্ষার কয়েক দিন আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা কখনো চিন্তাই করতে পারেনি এই পরীক্ষার্থী।
শুধু শাহিদ নয়, তার মতো হাজারো এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিন ও রাত মিলে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জেলা শহরসহ জেলার সাতটি উপজেলায় সমানভাবে লোডশেডিং চলছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং হয়। প্রতিদিন গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জেলার প্রায় ৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহককে। হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। কারণ, আর কয়েক দিন পরেই শুরু হবে তাদের পরীক্ষা।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সারা জেলায় তাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫০ মেগাওয়াট। গ্রিড লাইন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৪৫ শতাংশ। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা প্রতিদিন লোডশেডিং করা হচ্ছে। এত পরিমাণে লোডশেডিং হচ্ছে—মোবাইল, ফ্যান ও লাইটে চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না—বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা যায়।
শমশেরনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল মেশিনারি স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ভালো থাকে। আর ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় এসব মেশিনারিজের ক্ষতি হয়।’
এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলে, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিং। এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন পরেই আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সকাল, বিকেল ও রাতে—যখনই পড়তে বসি, তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। আমার মতো পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কয়েক দিন আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা ভাবিনি।’
এদিকে জেলা শহরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ করতে হয়। আমার দোকানে বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। পাঁচ-ছয়জন মানুষকে প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। তবে কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে।’
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আসলে আগে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল। এখন আগের তুলনায় কয়েক গুণ চাহিদা বেড়ে গেছে। বৃষ্টি হলে এই সমস্যা সমাধান হবে। এ ছাড়া আমাদের প্রতিদিন প্রয়োজন ৫০ মেগাওয়াট। আমরা পাচ্ছি ২০-২২ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা। আশা করি, এই সমস্যা সমাধান হবে।’