হোম > সারা দেশ > মাদারীপুর

মাদারীপুরের শিবচর: নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পদ্মাপাড়ে বসেছে ‘ইলিশের হাট’

ইমতিয়াজ আহমেদ, শিবচর (মাদারীপুর) 

পদ্মাপাড়ে বসা ইলিশের হাট। গত শুক্রবার শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও থেমে নেই ইলিশ শিকার। অসাধু জেলেরা দিনরাত পদ্মায় জাল ফেলছে। নদীপাড়েই বসিয়েছে ‘হাট’। প্রকাশ্যে চলছে বিক্রি। মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মাবেষ্টিত বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ে বসেছে এমন অস্থায়ী হাট।

এদিকে ইলিশ শিকার বন্ধে পদ্মায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান। তবে লোকবল কম থাকায় এবং ইলিশ শিকারিরা সংঘবদ্ধ এবং অসংখ্য লোক একত্রে থাকায় অভিযানকালে হামলারও শিকার হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

গত শুক্রবার শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা পদ্মাপাড়ে একটি অস্থায়ী ইলিশের হাট ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ বিক্রিকে কেন্দ্র করে লোকজনের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মুখরোচক নানা খাবারের দোকানের পসরাও সাজিয়ে বসেছে।

কাজিরসূরা পদ্মাপাড় ঘুরে আরও দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই একের পর এক মাছ ধরার ট্রলার এসে ভিড়ছে ঘাটে। ঝুড়ি ভরে মাছ নিয়ে পাড়ে নামছে জেলেরা। কেউ আবার ট্রলারে থাকা অবস্থায় বিক্রি করে দিচ্ছে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে। তারা আবার নদীপাড়ে ডালি সাজিয়ে বসেছে মাছ নিয়ে। সাধারণ ক্রেতারা দরদাম করে কিনছে ইলিশ। শিবচরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আয়োজন করে পদ্মাপাড়ে আসছে ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মাপাড়ের কাজিরসূরা, হীরাখাঁর বাজারসহ তিন-চারটি স্পটে দেদার ইলিশ বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, শিবচরের মূল ভূখণ্ড থেকে চরাঞ্চলে প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর প্রবেশ দেখলেই খবর পৌঁছে যায় অস্থায়ী হাটের বিক্রেতাদের কাছে। অভিযান পরিচালনার আগেই চরাঞ্চলের কাশবনে লুকিয়ে পড়ে বিক্রেতারা। পাড়ে থাকা জেলেরাও ট্রলার নিয়ে মাঝ নদীতে সরে পড়ে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে কেনা পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকলেও জেনে-শুনে কেন মাছ কিনতে এসেছেন—এমন প্রশ্নে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘দাম কমে পাওয়া যায়। তা ছাড়া পদ্মা থেকে ধরা একদম তাজা মাছ সবার কাছেই লোভনীয়। আমি না কিনলেও কেউ না কেউ তো কিনবেই।’

ভাঙ্গা থেকে মাছ কিনতে আসা সুজন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আসলে আমরা ঘুরতে এসেছি। দামে কম পেলে মাছও কিনব।’

স্থানীয়রা জানান, এ বছর সরাসরি জেলেরা ভোক্তাদের কাছে মাছ বিক্রি করছে না। আলাদা বিক্রেতা আছে। তারা জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে তারপর বিক্রি করছে। মাছের দাম তুলনামূলক বেশি থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে মাছ কিনতে। এ কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ তো করেইনি, বরং নতুন জাল তৈরি করে সংঘবদ্ধ হয়ে নদীতে নামে। দাদনে (ঋণ) টাকা এনেও এবার মাছের ব্যবসায় নেমেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ইলিশ ধরায় জেলেদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে, তবু তাদের থামানো যাচ্ছে না।

ইউএনও এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তবে পদ্মাপাড়ের হাটগুলোতে আমরা বড় অভিযান চালাব। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওখানে জেলে এবং স্থানীয় বিক্রেতারা সংঘবদ্ধ এবং সংখ্যায় অনেক। আমরা লোকবল কম থাকায় নদীতে জেলেদের হামলার শিকারও হতে হচ্ছে। তবে হাটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে শিগগির।’

মাদারীপুরে মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি জুলহাস তালুকদার গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

মাদারীপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ভাঙন, আতঙ্কে পাড়ের মানুষ

মাদারীপুরে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

মাদারীপুরে জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক আটক

শিবচরে মহিষ জবাই করে স্পেন সমর্থকদের ভূরিভোজের আয়োজন

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

একটু বৃষ্টিতেই জলবন্দী হয়ে পড়ছেন শিবচরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় যা বললেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার

একমাত্র ছেলেকে নিজেই পুলিশে দিলেন মা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহরের গাড়িতে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ, তদন্ত করছে পুলিশ