লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের মারধরে দুলাল হোসেন (৪৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (১৬ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত দুলালের স্ত্রী রুনা বেগম বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারদহ গ্রামে অটোরিকশাচালক দুলাল হোসেনসহ ভ্যান ও ঠেলাগাড়িচালক পাঁচটি পরিবার বসবাস করে আসছে। তাদের বসতবাড়িতে যাতায়াতের কাঁচা রাস্তা একই এলাকার মুকুল হোসেনের বাড়ির সামনে দিয়ে হওয়ায় তিনি নিজের জমি দাবি করে প্রায়ই রাস্তা বন্ধ করে দিতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। সবশেষ গত শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বাঁশের বেড়া দিয়ে আবারও রাস্তা বন্ধ করে দেন মুকুল হোসেন। এ নিয়ে দুলাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এরপর ক্ষুব্ধ দুলাল অন্যদের নিয়ে গতকাল রাত ৮টার দিকে নিজেদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে চলাচলের ইটের সোলিং রাস্তা কোদাল দিয়ে কেটে গর্ত করতে থাকেন। এ সময় মুকুল হোসেন ও তাঁর লোকজন দুলালকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় দুলাল হোসেনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ রোববার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত দুলাল হোসেন তিন কন্যাসন্তানের জনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরিবারসহ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘আমরা ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা নিয়ে সমস্যা চলছে। স্থানীয় নেতারা রাস্তা খুলে দিলেও পরে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা রাস্তার সামনের অংশে গর্ত করেছি।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত দুলালের স্ত্রী একটি হত্যা মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।