হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

ইবি ও জাবির দুই শিক্ষার্থীকে বহিরাগতদের মারধর

ইবি সংবাদদাতা

তরুণ বিশ্বাস ও লিখন। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মীর মুগ্ধ সরোবর এলাকায় বহিরাগত যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে জেরা করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে স্থানীয় বহিরাগত লোকজন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস-সংলগ্ন থানা গেট এলাকায় মারধরের শিকার হন তাঁরা।

হামলায় ইবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তরুণ বিশ্বাসের নাক, কান ও চোখের নিচে আঘাত লেগেছে এবং তাঁর একটি দাঁত ভেঙে গেছে। জাবির চারুকলার শিক্ষার্থী লিখন সামান্য আহত হন। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে সরোবর এলাকায় এক যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান ইবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তরুণ বিশ্বাস, জাহিন আফিফা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী লিখন। এ সময় ওই যুগলের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা স্থানীয় কয়েকজনকে ফোন করে ডেকে আনেন। পরে পাঁচ-ছয়টি মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকসহ আরেক যুগল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্যাম্পাসের সিকিউরিটি সেলের সদস্য আরশাদ বহিরাগত লোকজনকে লাঠিচার্জ করে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেন। এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এদিন সন্ধ্যায় জাবি শিক্ষার্থী লিখনের মোটরসাইকেল নষ্ট হয়ে গেলে মেরামতের জন্য তিনি ইবি শিক্ষার্থী তরুণ ও ঐশীকে নিয়ে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শেখপাড়া বাজারে যান। পরে সেখান থেকে ভ্যানে করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে থানা গেট এলাকায় ১০-১২ জন স্থানীয় যুবক তাঁদের গতিরোধ করেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা তরুণ ও লিখনকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কিলঘুষি মারতে শুরু করেন। তবে লিখন দৌড়ে পালাতে পারায় খুব বেশি আহত হননি। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তরুণ বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের ওপর আগে থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। শেখপাড়া থেকে ফেরার পথে হঠাৎ ১০-১২ জন মিলে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। তাদের হাতে ইটজাতীয় কিছু ছিল। আমার একটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং নাকে মারাত্মক আঘাত পেয়েছি।’

এই ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইবির চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, তিন শিক্ষার্থী ওই যুগলকে কিছুটা আপত্তিকর অবস্থায় দেখে তাঁদের নানাভাবে হেনস্তা করেন। এমনকি জাবি শিক্ষার্থী লিখন ওই সময় তাঁদের র‍্যাগ দেন। পরে ওই যুগল আরেকটি পরিচিত কাপলকে ডেকে আনেন। পরে তাঁদেরকেও হেনস্তা করা হয়। তিনি আরও বলেন, পরে ওই যুগলের এক সদস্য স্থানীয় লোকজনকে ফোন করলে পাঁচ-ছয়টি মোটরসাইকেলে কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর এবং নিজেদের সহপাঠীদের বিষয়টি জানান। পরে ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী জড়ো হন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য আরশাদ কয়েকজন বহিরাগতকে লাঠি দিয়ে মারধর করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এরপর মেয়ে দুজন কান্না করতে করতে স্থান ত্যাগ করেন। ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘পরে সন্ধ্যার দিকে জসীম মামার দোকানের সামনে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই সময় লিখনকে বহিরাগতরা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এই ঘটনায় এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তরুণদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে নিষেধ করেন এবং লিখনকে ক্যাম্পাস ত্যাগের পরামর্শ দেন। পরে জাবি শিক্ষার্থী লিখন ইবি শিক্ষার্থী তরুণ ও ঐশীকে নিয়ে শেখপাড়া বাজারে গেলে তারা হামলার শিকার হন। তবে হামলার সময় লিখন দৌড়ে সরে যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আঘাত পাননি। পরে তরুণ একা পড়ে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়।’

এ বিষয়ে জাবি শিক্ষার্থী লিখন বলেন, ‘আমরা কয়েক বন্ধু মিলে ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়েছিলাম। ইবি চারুকলার কয়েকজনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় আছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরছিলাম। লেকপাড়ে গেলে স্কুলপড়ুয়া এক কাপলকে কিছুটা আপত্তিকর অবস্থায় দেখি। পরে বিষয়টি তরুণ ও তার বন্ধুরা প্রক্টরকে জানায়। এরপর ওই যুগল স্থানীয় কিশোরদের ডেকে আনে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি মীমাংসা করে। এরপর আমার বাইক নষ্ট হলে তরুণ ও ঐশীকে নিয়ে শেখপাড়ায় যাই। ফেরার পথে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’

র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে লিখন বলেন, ‘আমি বাইরের শিক্ষার্থী। আমি কেন এসব করব?’

এদিকে ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দোষী ব্যক্তিদের শনাক্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাতে থানায় অবস্থান করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

দৌলতপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ

কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০

কুষ্টিয়ায় ৩২ ঘণ্টা পর পরিবহনশ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ

দৌলতপুরে পীর হত্যা: প্রকাশ্যে ঘুরছেন আসামি, গ্রেপ্তার নেই

ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবন ও ফটকে তালা

কুষ্টিয়ায় পীরকে হত্যা: সাবেক শিবির নেতার হুকুমে হামলা চালায় আসামিরা

দৌলতপুরে পীর হত্যার ঘটনায় মামলা: জামায়াত কর্মীসহ ৪ জনের নাম