কুড়িগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক মাঠে ধানগাছের বেশির ভাগ পানির নিচে চলে গেছে, ফলে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
টানা বৃষ্টির কারণে জেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইতিমধ্যে কিছু ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান মাঠে রয়ে গেছে। এসব ধান পরিপক্ব অবস্থায় থাকলেও পানিতে ডুবে যাওয়ায় তা কাটা ও সংরক্ষণ নিয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি কাটা ধান শুকানো এবং খড় সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিলমারি উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের কৃষক মোনাল বলেন, ‘ধান আর খড় নিয়া বিপদে আছি। যেগুলা ধান কাটছি তার পোয়াল (খড়) শুকবার পাবানচি না (পারছি না)। এলাও জমিত পাকা ধান পড়ি আছে। এমন করি ঝড়ি হইলে কাটমো কেমন করি! আবাদের টাকা এবার পানিতে শেষ!’
জেলা সদরের চরুয়াপাড়া গ্রামের কিষানি রেশমা বেগম বলেন, ‘কাইল ধান কাটি বাড়ি আনছি। জমিত ছিল ভালে ছিল। এলা ধান নিয়ারও বিপদ, পোয়াল নিয়াও বিপদ। এবার কপালত কী আছে আল্লায় জানে!’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির ধান ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে বাকি অংশের ধান মাঠে থাকায় নতুন করে বৃষ্টিপাতে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেক জমিতে ধানগাছের গলা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। গত তিন দিনে কিছু ধান কাটা গেলেও এখনো প্রায় অর্ধেক জমির ধান বাকি রয়েছে। পানি নেমে গেলে কৃষকেরা আবার ধান কাটতে পারবেন। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রায় সব জমির ধান পেকে গেছে। পানি নেমে গেলে সেসব কাটা যাবে। পানিতে নিমজ্জিত কিছু জমির পাট ও সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি থেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাকে। কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়তো হবে। সকালে মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি অনেক কৃষকের অর্ধ শুকনো খড় আবার ভিজে গেছে। খড় পচে গেলে প্রাণী খাদ্যের সংকট হতে পারে।’
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ এই অঞ্চলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।’