কুড়িগ্রাম শহরের ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেলকে ট্রাক চাপা দেওয়ায় ঘটনায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধরলা ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে মাটিকাটা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজ্জাজ বিন হিমু (১৬) নামের এই কিশোরের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু সাদমান সাদিককে (১৬) দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাদমান সাদিক ও হাজ্জাজ বিন হিমু দুজনই দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সাদিক শহরের বানিয়াপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে। আরেক কিশোর হিমু শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার নুর ইসলাম ও হালিমা হিরা দম্পতির ছেলে। সাদিক কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং হিমু কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনস স্কুলের শিক্ষার্থী। পৃথক স্কুল পড়লেও তারা একসঙ্গে ঘোরাফেরা করত।
নিহত সাদিকের খালাতো ভাই রোমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হিমু ও সাদিক মোটরসাইকেলে করে ধরলা ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে চা খাওয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল। এ সময় মাটিকাটা মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে দুই বন্ধু গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাদিককে মৃত ঘোষণা করেন। হিমুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পরপর রাতে তাঁরও মৃত্যু হয়।
এদিকে দুই কিশোরের মৃত্যুতে তাদের আত্মীয়-স্বজন, স্কুলশিক্ষক ও বন্ধু বান্ধবদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে জানাজা শেষে সাদিককে তার গ্রামের বাড়ি রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের বালাকান্দি মুক্তার পাড়া গ্রামে দাফন করা হয়।
ছেলের মৃত্যুর খবরে হিমুর বাবা চট্টগ্রাম থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি পৌঁছার পর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের বাঞ্ছারাম গ্রামে হিমুকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ বলেন, কয়লা বোঝাই ট্রাকচাপায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। চালক পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।