কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা সদরে এ সংঘর্ষ হয়।
ফুলবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এলাকা এখন শান্ত রয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রতিবাদে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরের ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেন।
এ উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বেলা ৩টার দিকে মহিলা ডিগ্রি কলেজ মোড়, কাচারি মাঠ, ফুলবাড়ী উচ্চবালিকা বিদ্যালয় ও ব্র্যাক মোড়ে সমবেত হতে থাকে। এ সময় উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকটি অটোরিকশায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে উপজেলা শহরে প্রবেশ করেন। এ সময় ছাত্রলীগ তাঁদের বাধা দেয়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে সমাবেশস্থল থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সদরের তিনকোনা মোড়ে প্রবেশ করলে আবারও ছাত্রলীগের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।
পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে উপজেলার মহিলা কলেজসংলগ্ন কদমতলা মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল জানান, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁদের প্রায় ১০-১২ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি জানান।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের কর্মীদের আহত করার প্রতিবাদে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও তিনকোনা মোড়ে সমাবেশ করেন। এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তৌকির হাসান তমাল।