ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় ৯ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে ফের বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। বেলা ১টা ৫০ মিনিটে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় পুনরায় এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরববাজার জংশনের আউটার সিগন্যালের কাছে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। সকাল ৭টায় আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ভৈরবে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চালু করেন স্টেশনমাস্টার।
উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও পার্শ্ববর্তী দৌলতকান্দি স্টেশনে আটকে থাকা পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে পৌঁছানোর পর সিলেটের উদ্দেশে ট্রেনটি প্রথমে ছেড়ে যায়। তবে আউটার সিগন্যাল পার হওয়ার পর ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে পুনরায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বেলা দেড়টার দিকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার ও মেরামতকাজ চলমান রয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, গতকাল রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেন। রাত ২টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ভৈরবে পৌঁছে ৩টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। স্টেশনের আউটার সিগন্যাল পার হওয়ার পর চার নম্বর বগির সামনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
এ ঘটনায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এগারো সিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরব স্টেশনে আটকা পড়ে।
এ ছাড়া কুলিয়ারচর স্টেশনে বিজয় এক্সপ্রেস, নরসিংদীর দৌলতকান্দিতে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, খানাবাড়িতে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তূর্ণা নিশিতা ও তিতাস কমিউটার ট্রেন আটকা পড়ে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, অপারেটিং সিস্টেম থেকে ক্রসিং লাইনে কোনো সিগন্যাল যায়নি। এটি পয়েন্টম্যানের দায়িত্ব ছিল। তবে ত্রুটির প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সকাল ৭টায় রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে পারাবত ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় আবারও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কামরুজ্জামান আরও জানান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাফিলতি আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।