হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের প্রাণ নরসুন্দা নদী দখলকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: মাজহারুল ইসলাম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

নরসুন্দা নদ এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

অবৈধ দখল ও স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদীকে বাঁচাতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নরসুন্দা কিশোরগঞ্জের প্রাণ। এই প্রাণকে বাঁচাতে কোনো আপস হবে না। নদী দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এই নদীকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা হবে।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে মাজহারুল ইসলাম এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে নদীর বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা একটি গুরুতর অপরাধ। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের উচ্ছেদে কাজ শুরু করব।’

নদী পুনরুদ্ধারে একটি সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসি ল্যান্ডকে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করতে হবে এবং যারা নদীর জায়গা দখল করে আছেন, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এই তালিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’ এ ছাড়া নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নরসুন্দা নদীটি রক্ষায় সংসদ সদস্যের এই ঝটিকা সফর ও কঠোর অবস্থানে আশার আলো দেখছেন কিশোরগঞ্জবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় নরসুন্দা ছিল অত্যন্ত নাব্য ও প্রশস্ত। কিন্তু গত কয়েক দশকে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাহেদ মিয়া, রুমেজ আলী, মাইনুল ইসলাম, রমজান আলী, হাবিব মিয়া, রহম আলী, সজল মিয়া, দুলাল মিয়া, ইজ্জত আলীসহ মোট ৪১ জন নরসুন্দা নদীর পাড়ের প্রায় ৮২ শতাংশ জায়গা দখল করেছেন। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দখলদারের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০০ হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘নদী “জীবন্ত সত্তা”—মহামান্য হাইকোর্টের এই ঘোষণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদ-নদীগুলো হত্যা করছে, দখল-দূষণ করছে একশ্রেণির মানুষরূপী পশু। নদীশাসনের নামে নদ-নদীগুলোর প্রাণপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা দখল করছে, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম: নদী-খালে বিলীন হচ্ছে সড়ক

কিশোরগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, তিন কিশোর গ্রেপ্তার

প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার পরও পিটিয়ে মারা হলো হানিফকে, গ্রেপ্তার ৫

সংসদ সদস্যের সঙ্গে শিক্ষকদের মতবিনিময়ে গুরুত্ব পেল বিদ্যালয়ের সমস্যা ও উন্নয়ন

গৃহবধূকে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর সময় যুবক গ্রেপ্তার

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগ, ঘরে বসেই মিলবে হামের চিকিৎসা

শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত ৯টায়, চলবে দুটি বিশেষ ট্রেন

কটিয়াদীতে গর্তের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের নিকলী: সওজের জমি ‘দখল’ করে দোকান-গুদাম

সওজের জায়গা দখল করে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের দোকান নির্মাণ