কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মামাতো ভাই অপু (১৪) মারা গেছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ২টার দিকে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সাঁতারপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু সাঁতারপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে অভিযুক্ত কিশোর সীমান্ত মিয়াকে (১৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সীমান্ত একই গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জুন সীমান্তর একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। তার সন্দেহ ছিল, ফোনটি অপু চুরি করেছে। এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকও হয়। তবে সালিসে অপুর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। সালিসের রায় মেনে নিতে পারেনি সীমান্ত। তার মনে অপুর প্রতি ক্ষোভ ও সন্দেহ জমাট বাঁধতে থাকে।
আজ দুপুরে সীমান্ত পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাঁতারপুর গ্রামের একটি সেতুর কাছে অপুকে ডেকে আনে। সেখানে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত তার সঙ্গে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে অপুর পেটে সজোরে আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে অপু।
অপুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সীমান্তকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে। অন্যদিকে গুরুতর আহত অপুকে উদ্ধার করে দ্রুত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সীমান্তকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
সুবীর কুমার আরও বলেন, নিহত অপুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।